"শুচিবাই" নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
 

"শুচিবাই" চিকিৎসার পরিভাষায় ‘অবসেসিভ কম্পালশিভ ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে ‘ওসিডি’ বলা হয়। এই রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আজকের আলোচনা।
OCD রোগীর লক্ষণ:
একটি obsessive thought থাকে যা বার বার রোগীর মনে আসতে থাকে, রোগী বুঝতে পারে এটা অযৌক্তিক, সরাতে চেষ্টা করে বা বাধা প্রদান করে, ব্যর্থ হয় হতাশ হয় অস্থির হয়। দুইটি part আছে OCDতে একটা Obsession, অপরটি compulsion। compulsion হল obsessive thought দূর করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। content -এ কি কি থাকে
* Dirt & contamination
* Aggression
* Sex
* Religion
* Orderliness
* Illness.
Dirt & contamination
OCDতে রোগী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকে এবং বারবার হাত ধৌত করেন, বার বার গোসল করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। প্রচুর সাবান ও পানি নষ্ট করে এজন্য তার স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে। পারিবারিক জীবন ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত ধোয়া মোছার জন্য চর্মরোগেও আক্রান্ত হতে পারে। রোগী কাউকে তার গ্লাসে পানি খেতে দেন না। কেউ তার ঘরে ঢুকে পড়লে, বিছানায় বসলে বার বার এগুলো পরিষ্কার করতে থাকে। কিন্তু তারপর ও তার doubt বা সন্দেহ যায় না। তার মানে বিশ্বাস থেকেই যায়, এখনও ময়লা ঠিকভাবে যায়নি।
★ Aggression
রোগীর মাথায় চিন্তা আসতে থাকে কাউকে আঘাত করার, কাউকে Stab করে দেয়ার। রোগী বুঝতে পারে তার এ চিন্তা অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক। কিন্তু তারপরও এ চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারেন না, ব্যর্থ হন। যেমন- রোগীর সামনে একটি ছুরি আছে, রোগীর মাথায় বার বার এ চিন্তা আসতে থাকে, এ ছুরি দিয়ে বাচ্চাকে Stab করার, পরবর্তী সময় ভয়ে সে ছুরির সামনে যেতেই চান না। যদি সে Stab করে দেয়। একবার ভেবে দেখুন, কি ভয়াবহ ব্যাপারে রোগী আত্মদংশনে ভুগতে থাকেন, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ফেটে পড়েন। তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে।
★ Sex
OCD রোগীদের মাথায় Sex নিয়ে অশ্লীল আজে-বাজে চিন্তা আসে যা তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে Match তো করে না বরং উল্টো। যেমন- এক রোগীর মাথায় তার মা-মেয়ের যৌনাঙ্গ নিয়ে অশ্লীল চিন্তা আসতে থাকে। অশ্লীল ছবি ও আসতে থাকে। যে এটাকে অযৌক্তিক মনে করে সরানোর জন্য প্রাণ-পণ বাধা দেন। পারে না সরাতে এরপর হতাশ ও ব্যর্থ হয়। আত্মগ্লানি ও আত্মদংশনে মুষড়ে পড়ে। OCD রোগীর এ কারণে ১/৩ অংশ বিষণ্ণতায় ভোগেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ও বিরল নয়।
★Religion
ধর্মের বিরুদ্ধে, আল্লাহর বিরুদ্ধে অশ্লীল চিন্তা আসতে থাকে। যা তার সনাতন বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সে জানে তার এ চিন্তা অযৌক্তিক, সরাতে চায়, পারে না। আত্মদহনে মরে যেতে চায়। সে ভাবে আমি নাস্তিক হয়ে গেছি। আমি নিশ্চিতভাবে নরকে যাব। কেবল ইসলাম নয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ও এটা সমস্যা হয়। এর থেকে নাস্তিকের তফাৎ হল নাস্তিক আত্মদহনে ভোগে না কোনো অনুশোচনা সে করে না। কিন্তু OCD রোগীদের এ ভয়াবহ অবস্থা চিকিৎসা ব্যতীত ভয়াল থেকে ভয়ালতর রূপ ধারণ করে।
★Orderliness
OCD রোগী তাদের জিনিসপত্র তার স্টাইলে গুছিয়ে রাখে। এলোমেলো করলে তার মাথায় আগুন ধরে যায়, প্রচণ্ড অস্বস্তি লাগে। যতক্ষণ না তা পূর্বের অবস্থায় আনা না হয়। এরা এক বিশেষভাবে হাঁটে। এ থেকে ব্যতিক্রম হলে আবার প্রথম থেকে শুরু করেন। এটাকে বলে Sequence. Sequence নষ্ট হলেই এরা অস্থির হয়ে পড়েন, আবার নতুন করে শুরু করেন। টাকা Count করতে থাকে ১টা বিশেষ পদ্ধতিতে একটু হেরফের হলেই অস্বস্তিতে ভোগে, অস্থির হয়ে উঠে। একে বলে Counting Ritual সেসব বুঝলে ও এই বলয় থেকে বের হতে পারেন না।
★রোগের কারণ : সুনির্দিষ্ট কারণ না পাওয়া গেলেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে যে সমস্ত তথ্য ভাবা হচ্ছে তা হলো— জন্মের সময় ব্রেনে আঘাত, হেড ইনজুরি, এনকেফেলাইটিস এবং মৃগী রোগীদের ওসিডি বেশি হয়। অনেক সময় বংশগত কারণও থাকে।
সাইকোডায়নামিক থিওরি অনুযায়ী অবচেতন মনে উদ্বেগ কমানোর জন্য কতগুলো প্রক্রিয়ার সাহায্য নেয় যাদের বলে ডিফেন্স মেকানিজম। নিউরোটিক ও সাইকোটিক রোগের লক্ষণ হিসেবে এই ডিফেন্স মেকানিজম প্রকাশ পায়। এই রোগীর ক্ষেত্রে কিছু ডিফেন্স মেকানিজম কাজ করে।
হোমিও সমাধান : হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. হানেমান মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর জোর দিয়েছেন বেশি। কারণ মন খারাপ হলেই শরীরে প্রভাব পড়ে বেশি। মনস্তত্ত্বকে বাদ দিয়ে হোমিওপ্যাথিতে মানসিক রোগীকে সর্বাঙ্গীন সুস্থ করে তোলা কঠিন। শুচিবাই চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে বিশেষ ফলদায়ক চিকিৎসা আছে। যা অন্য প্যাথিতে নেই।
হোমিও চিকিৎসা : রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, এ জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর রোগের সঠিক লক্ষণ নির্বাচন করে প্রাথমিকভাবে যেই সব ওষুধ নির্বাচন করে থাকে— নাক্সভম, সিফিলিনাম, একোনাইট, হিপারসাল্ফ, আর্সেনিক, এন্টিম ক্রুড, অরামমেট, ক্যামোমিলা, চায়না, ইগ্নেসিয়া, এগনাস ক্যাস্টস, ল্যাকোসিস, এসিড ফস, পালসেটিলা, সিপিয়া, সালফার, থুজা, মেডোরিনাম, মার্কসল, স্ট্রামোনিয়াম, ক্যালকেরিয়া ফস, সোরিনামসহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের আসতে পারে। তাই ওষুধ নিজে নিজে ব্যবহার না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
=====================================
হােমিওপ্যাথিক মেডিসিন কনসালটেন্ট
ডাঃ এম. শামসুল হক মেহেদী
বি. এইচ, এম, এস (ঢা:বি:)
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত (ICPC)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এক্স- হাউজ ফিজিশিয়ান
সরকারি হােমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
গভঃ রেজিঃ নং- এইচ- ৯৯৬, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালি, ঢাকা
চর্ম, যৌন, বন্ধাত্ব, মহিলা ও শিশু রােগে অভিজ্ঞ।
💁‍♀️মহিলা রােগীদের জন্য সুখবর!!!
আমার হোমিওপ্যাথি পেইজের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন..
মহিলা ও শিশু রােগে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসক..
ডাঃ বুশরা মাহমুদ
বি.এইচ.এম.এস (ঢাঃবিঃ)
বি.এইচ.এস (আপার)
সরকারী হােমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,
ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং- এইচ- ১০২৬, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালি, ঢাকা
বিঃদ্রঃ স্বল্পমূল্যে, স্বল্প খরচে উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবাই
আমাদের একমাত্র লক্ষ্য..
যোগাযোগ :📞 01975909166

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন