নখকুনির হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


অনেক সময় পায়ের বা আঙুলের নখ ত্বকের ভেতর দিকে দেবে যায় বা নখের নিচের মাংসে ঢুকে যায়। একে নখকুনি বা ইনগ্রোয়িং অব নেইল বলা হয়। এই সমস্যায় ব্যথা তো হয়ই, কখনো সংক্রমণ হয় এবং পুঁজ বের হতে থাকে।
 
★উপসর্গঃএক বরাবর ব্যথা এবং স্পর্শকাতরতা, বা নখের দু-পাশে লালচে
ভাব। নখের চারপাশে ফোলা ভাব, যন্ত্রণা ও সংক্রমণ। পায়ের নখ প্রায় টিস্যু সংক্রমণ।
★জটিলতাঃচিকিৎসায় ধরা না পড়লেও অন্তবর্ধিত পায়ের নখ অন্তর্নিহিত
হাড় সংক্রমিত করবে এবং ভবিষ্যতে হাড়ের বড় ধরণের
সমস্যার সৃষ্টি করবে ও হাড় সংক্রমিত হবে।
★কেন হয় নখকুনি বা ইনগ্রোয়িং
নখ ও এর নিচের ত্বক কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। প্রতিনিয়ত কেরাটিনের ঘন স্তর তৈরি হতে থাকে এবং নতুন নখের কলা তৈরি হয়। নিচের কেরাটিন স্তরের সঙ্গে এই নতুন নখের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নখ দেবে যেতে পারে। সাধারণত কোনো কারণে আঘাত (যেমন জুতার ঘর্ষণ), ছত্রাক সংক্রমণ, নেইল বাইটিং বা নখ কামড়ানোর অভ্যাস, ভুল পদ্ধতিতে নখ কাটা (নখের কোনা বড় করে রাখা) ইত্যাদি কারণে এই অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।
★কি কি সংক্রমণ হতে পারে??
নখকুনি সমস্যা হলে এতে নিচের মাংস বা ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমণ হলে তা থেকে পুঁজ বের হতে পারে, এমনকি চিকিৎসা না করালে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশে ও নিচের হাড়ে। নখটির স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
★নখকুনি হলে কী করবেন?
★ঘরোয়া চিকিৎসা..
প্রথমে বাড়িতে এর যত্ন নিতে পারেন। আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিন বা হালকা কুসুম গরম পানিতে আঙুল ডুবিয়ে রাখুন দিনে দুবার করে, ২০ মিনিট। পরে শুকিয়ে অ্যান্টি–ফাঙাল বা অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে দিন। পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন। তবে যদি সংক্রমণ দেখা দেয়, ফোড়ার মতো হয়ে যায়, লাল হয়ে ফুলে পুঁজ বেরোতে থাকে কিংবা আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন, তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কখনো অ্যাবসেস বা ফোড়া কেটে পুঁজ বের করে দিতে হয়। কখনো চিকিৎসক হয়তো নখের নিচে একটা মেডিকেটেড ব্যান্ডেজ প্রবেশ করিয়ে দেবেন। আবার অবস্থা বেগতিক হলে পুরো নখটাই উঠিয়ে ফেলতে হতে পারে।
★!! সতর্ক থাকুন!!
ডায়াবেটিসের রোগীর পায়ের যেকোনো সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে যদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকে। তাই রক্তের সুগার পরীক্ষা করুন, বেশি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
★হােমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধঃ
Acid Nit-নখকুনির একটি প্রধান ঔষধ Acid Nit. এর প্রধান
লক্ষণ হল- যেকোন অঙ্গের চিপা চাপা ও শেষ প্রান্ত আক্রান্ত
ইত্যাদি লক্ষণে Acid Nit- 30; তিন বেলা এক ফোটা করে দু'দিন
খাওয়ান।
Silicea - নখকুনির একমাত্র ঔষধ হিসেবে Silicea কে
বিবেচনা করা হয়। কুনি নখে প্রচন্ড ব্যথা, পুঁজ থাকলে- Silicea
-30; তিন বেলা এক ফোটা করে দু'দিন খাওয়ান। দীর্ঘস্থায়ী
অবস্থার Silicea অধিক কার্যকর।
Graphites :- নখকুনির জন্য অন্য একটি কার্যকরী ওষুধ হলGraphites । টিস্যু ফোলা এবং ক্ষত, তীব্র ব্যথা এবং হাত দিয়ে
ধরলে অসহ্য ব্যথা। পায়ের নখ খুব সহজেই ভেঙ্গে হয়ে যায়,
এমন অবস্থায়- Graphites- 30; তিন বেলা এক ফোটা করে
দু'দিন খাওয়ান।
Hepar Sulph:-নখকুনির একটি প্রধান ঔষধ হল Hepar
Sulph. অসহ্য যন্ত্রণা। হাত দিয়ে টাচ করলেই ব্যথা। সামান্য চাপ
সহ্য করতে পারে না। ক্ষত হয়ে যাওয়ার উপক্রম ইত্যাদি লক্ষণেHepar Sulph- 30; তিন বেলা এক ফোটা করে দু'দিন খাওয়ান।
Fluoric Acid - নখের ভিতরে পেরেক মারা ব্যথা।পা ও নখ
বিকৃত হয়ে যাওয়া, পায়ের নখ দ্রুত টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়া
ইত্যাদিই লক্ষণে- Fluoric Acid -30 তিন বেলা এক ফোটা করে
দু'দিন খাওয়ান।
Bufo Rana::- নির্ধারিত নখে যখন পার্শ্ববর্তী টিস্যু ফোলা থাকে
এবং পুঁজ উৎপন্ন হয়। উর্ধ্বগামী গভীর নিস্তেজ ব্যথা-বগল
পর্যন্ত প্রসারিত হয়। নখ যদি নীলাভ বা কালচে রঙের হয়ে যায়।
তবে এমন অবস্থায় -Bufo Rana -30; তিন বেলা এক ফোটা
করে দু'দিন খাওয়ান।
পরামর্শঃ- calendula Q ও Echinacea Q একত্রে মিশিয়ে
নখের গােড়ায় দিনে ৩-৪ বার দিতে হবে।
★রােগীর ধাতুগত লক্ষণ,মানসিক লক্ষণ, রােগীর লক্ষণসমষ্টির
সাদৃশ্যে সর্বাপেক্ষা অধীক সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করতে সক্ষম।
হলেই দ্রুত রােগ নিরাময় সম্ভব ।এ কাজটি অত্যন্ত কঠিন তাই
নিজের ঔষধ নিজে নির্বাচন না করে একজন দক্ষ
হােমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিন।ধন্যবাদ রােগী
ভাইবােনদের সুস্থ্য থাকুন সুখী থাকুন।
হােমিওপ্যাথিক মেডিসিন কনসালটেন্ট
ডাঃ এম. শামসুল হক মেহেদী
বি. এইচ, এম, এস (ঢা:বি:)
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত (ICPC)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এক্স- হাউজ ফিজিশিয়ান
সরকারি হােমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
গভঃ রেজিঃ নং- এইচ- ৯৯৬, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালি, ঢাকা
চর্ম, যৌন, বন্ধাত্ব, মহিলা ও শিশু রােগে অভিজ্ঞ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন